কেউ কথা রাখেনি! সবাই শুধু আশ্বাস 

সিলেট বিডি নিউজ নেট
প্রকাশিত ১৬, জুলাই, ২০২১, শুক্রবার
কেউ কথা রাখেনি! সবাই শুধু আশ্বাস 

মোফাজ্জল ইসলাম সজীব: জীবনটা এতো কষ্টের কেন? গবিরকে নিয়ে সবাই মজা করে কেন? সবাই কয় তোমারে একটা ঘর দিমু তুমার ঘরে বিদ্যুৎ লাগাইয়া দিমু, ঈদ আইতাছে দেখা কইরো নতুন কাপড় কিনে দিমুনে তোমার দুই নাতিকে সহ । কিন্তু কেউ কিছু দেয় না, খালি আমারে মিথ্যে আশা দিয়া রাখে এভাবেই কেঁদে কেঁদে বলতে লাগলেন বৃদ্ধা আনেছা বিবি (৫৫)।

‘জীবনের প্রথম সময়টা ভালো কাটলেও, শেষ সময় টায় যেন অন্ধকার নেমে এসেছে। সামনে ঈদ আইতাছে দুই টা নাতি শুধু নতুন পেন্ট শার্ট চায় , সবাই নতুন কাপড় পরবো! আমার কোনো নতুন কাপড় নাই? ঈদের জামাতে জাইমু কি পইরা? গরিব বলে কী আমার কেনো মূল্যে নেই? আমি কি মানুষ না? এসব কথা গুলো এ প্রতিবেদক কে বলেছেন বৃদ্ধা আনেছা বিবির
দুই নাতি অলি উল্লাহ (৭)বছর ও আরফাত উল্লাহ ( ৪)।

স্থানীয়দের সাথে কথা বললে জানা যায়, বৃদ্ধা মহিলা আনেছা বিবির একটি মাএ মেয়ে ছিল
কল্পনা বেগম (৩৫)মারা গেছে ৪ বছর আগে। বয়সের ভারে শারীরিক অক্ষমতার কারণে কোনো কাজ করতে পারেন না কল্পনার মা আনেছা বিবি (৫৫) । এলাকার মানুষের সহযোগিতায় কোনো রকমে চলে সংসার।

এর মাঝে মৃত্যু’র সময় দুই ছেলে অলি উল্লাহ (৭)বছর ও আরফাত উল্লাহ ( ৪) মায়ের কাছে রেখে মারা যান কল্পনা, ঠাই হয় নি শ্বশুর বাড়িতে। কল্পনা বেগমের স্বামী বাড়ি মাধবপুর উপজেলার কাশিমনগর ধলগাঁও গ্রামে স্বামী ইউসুফ আলী করেছেন দ্বিতীয় বিয়ে ও ইউসুফ আলীর বর্তমান স্ত্রী ও দুই সন্তান নিয়ে বসবাস করছেন মাধব পুর উপজেলার ধলগাঁও গ্রামে কিন্তু প্রথম স্ত্রী কল্পনার বেগমের দুই সন্তান অলি ও আরফাত থাকার মত নেই কোন ভিটে বাড়ি ঘর ঠাই হয় বৃদ্ধা নানি নিঃসন্তান আনেছা বিবির সংসারে।

এমনই চিত্র দেখা গেছে নবীগঞ্জ উপজেলা সদর ইউনিয়ন রসুলগঞ্জ বাজারে এক ভাড়া বাসায় আছেন প্রতি মাসে এক রুম নিয়ে গুনতে হয় ১ হাজার টাকা, উল্লেখিত উপজেলার কালিয়ার ভাঙ্গা ইউনিয়নের মান্দার কান্দি গ্রামের হতদরিদ্র আনেছা বিবির স্বামী মারা গেছে অনেক দিন আগে সংসারে এক মেয়ে ছিল কল্পনা বেগম গার্মেন্টস কর্মী হবিগঞ্জের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান সায়হাম গ্রুপে এ চাকরিরত অবস্থায় কল্পনা বেগম মারা যায়।

সরেজমিনে আনেছা বিবির স্বামীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, তার স্বামী মারা যাওয়ার আগে কোন ঘর কিংবা ঘরের কোন জায়গা মৃত্যুর আগে স্বামী সুরুজ মিয়া তিনি থাকে দিয়ে যান নি।

আনেছা বিবি আরো বলেন, ভিটে বাড়ির জমিজমা কোন কিছু নাই। আমি কোন বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা পাই না, কোন’মতে দুই নাতি কে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে মানুষের কাছে হাত পেতে সংসার চলাই ।

এ বিষয়ে ওই এলাকার সংরিক্ষত ওয়ার্ডের মহিলা মেম্বার মোছাঃ রোকেয়া বেগম সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান বিষয় শুনে খুবই বিস্মিত হইলাম আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করব উনাকে ঘর পাইয়ে দেওয়া আর নতুন করে বিধবা ভাতা নাম দিব আনেছা বিবির সাথে আমি শিগগির যোগাযোগ করব।

কালিয়ার ভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ কে জানান বিষয় টি অবগত হয়েছি একটা ব্যবস্থা হবে ইনশাআল্লাহ।

নবীগঞ্জ উপজেলা সাবেক (সহকারি ভূমি) সুমাইয়া মুমিন সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দৈনিক আমার হবিগঞ্জ কে জানান পএিকায় উনার একটি নিউজ ছাপা হয়েছিল প্রতিবেদন টি আমি দেখেছি বর্তমানে কোন বরাদ্ধ নাই বরাদ্ধ আসলে উনার জন্য একটি ঘরে ব্যবস্থা করে দিয়ে যাব শেখ হাসিনার উপহার মুজিব বর্ষ উপলক্ষে ভূমিহীন একটি ঘর পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন।

এ বিষয়ে কথা হয় নবীগঞ্জ উপজেলা নবাগত (সহকারী ভূমি) উত্তম কুমার দাশ সাথে তিনি দৈনিক হবিগঞ্জের প্রতিবেদ’কে জানান, এই বিষয়ে আমি তো কিছু জানি না আচ্ছা ঠিক সাবেক সহকারী ভূমি সুমাইয়া মমিন এর সাথে আলাপ করে দেখবেন বলে জানান ।

 68 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
error: Content is protected !!