সকলেই পরীক্ষা এবং টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী

সিলেট বিডি নিউজ নেট
প্রকাশিত ২৭, জুলাই, ২০২১, মঙ্গলবার
সকলেই পরীক্ষা এবং টিকা নিন: প্রধানমন্ত্রী

বিশেষ প্রতিবেদক: কোভিড-১৯ টিকা কিংবা নমুনা পরীক্ষা নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তিতে না পড়তে দেশবাসীকে আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেছেন, কারও মধ্যে উপসর্গ দেখা দিলেই তিনি যেন নমুনা পরীক্ষা করিয়ে নেন। আর গ্রামেও টিকার ব্যবস্থা সরকার করছে, ফলে সবাই যেন টিকা নিয়ে নেন।

মঙ্গলবার আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবকলীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে একথা বলেন তিনি।

করোনাভাইরাস সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ে আক্রান্ত ‍ও মৃত্যুর সংখ্যা দ্রুতগতিতে বেড়ে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে এদিনই সরকার ইউনিয়ন পর্যায়েও টিকাদানের সিদ্ধান্ত জানায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একেবারে গ্রাম পর্যায়ে ভ্যাকসিন দেওয়ার ব্যবস্থা আমরা নিচ্ছি। সেখানে যে সবাইকে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে, তা না। আইডি কার্ড (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে সরাসরি টিকা কেন্দ্রে রেজিস্ট্রেশন করে নিতে পারবে।”

৭ অগাস্ট থেকে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোভিড টিকাদান

টিকা সংগ্রহ করতে সরকার তৎপর জানিয়ে তিনি বলেন, “ভ্যাকসিনের ব্যাপারে যেখানে যা পাওয়া যাচ্ছে, আমরা তা যোগাড় করছি। এর জন্য আলাদা টাকা রাখা আছে। আরও লাগলে আরও টাকা দেব।

“বাংলাদেশের ৮০ ভাগ মানুষ, যারা ভ্যাকসিন নিতে পরে ডব্লিউএইচও এর নির্দেশ মোতাবেক, সবাই যেন ভ্যাকসিন নিতে পারে সে ব্যবস্থা আমরা করে দিচ্ছি। প্রায় এক কোটি ৮৭ লাখের মতো ভ্যাকসিন কিন্তু আমরা দিয়ে দিয়েছি।”

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি। ফাইল ছবি
বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে টিকা নিতে আসা মানুষের সারি। ফাইল ছবি

টিকা নিয়ে ভীতি কাটলেও নমুনা পরীক্ষা করাতে অনেকেই চান না বলে খবর পাওয়ার কথা জানান শেখ হাসিনা।

“যেটা আমি গ্রাম থেকে খবর পাই। কেউ পরীক্ষা করতে চায় না। তাদের ধারণা, টেস্ট করলে করোনা আছে শুনলে সে অচ্ছুত হয়ে যাবে, তার সাথে মানুষ মিশবে না। এটা তো ঠিক না।”

বরং পরীক্ষা করিয়ে রোগ শনাক্ত হলে ওই ব্যক্তি যেমন চিকিৎসা করাতে পারবে, তেমনি তার কাছে থেকে অন্যের মধ্যে ছড়ানোও রোধ করা যাবে, বলেন তিনি।

টিকা নেওয়া ও নমুনা পরীক্ষা করাতে জনগনকে সচেতন করে তুলতে স্বেচ্ছাসেবক লীগের নেতা-কর্মীদের সক্রিয় হওয়ার তাগিদ দেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা।

“সাধারণ মানুষকে একটু সহযোগিতা করা, যেটা তোমরা আগেও করেছ। এটা করবে যাতে সবাই ভ্যাকসিনটা নিতে পারে। আমরা যদি ভ্যাকসিন দিয়ে দিতে পারি, তাহলে তো আর চিন্তা নেই। তখন (আক্রান্ত) হলেও সেটা বেশি ক্ষতি হচ্ছে না।”

করোনাভাইরাস মহামারীর শুরু থেকেই সাধারণ মানুষের পাশে থাকায় স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা-কর্মীদের ধন্যবাদও জানান তিনি।

শেখ হাসিনা বলেন, এই মহামারীকালে আওয়ামী লীগ ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাই সঙ্কটাপন্ন মানুষের পাশে দাঁড়াচ্ছে।

“আরও অনেক দল আছে বাংলাদেশে, দলের তো অভাব নেই। তারাও নাকি সাহায্য করে আমরা টেলিভিশনে মাঝেমধ্যে শুনি, কিন্তু দৃশ্যমান মানুষের পাশে দাঁড়ানো বা তাদের সহযোগিতা করা, সত্যিকারভাবে মানুষের জন্য কাজ করা, এটা কিন্তু আমাদের স্বেচ্ছাসেবক লীগ করে যাচ্ছে।”

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বছর শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি: পিআইডি
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। অনুষ্ঠানে তিনি স্বেচ্ছাসেবক লীগের এক বছর শীর্ষক একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করেন। ছবি: পিআইডি

সন্তান সজীব ওয়াজেদ জয়কে তার জন্মদিনে পাশে না পেয়ে আক্ষেপ ঝরে মা শেখ হাসিনার কণ্ঠে।

অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “১৯৭১ সালের এই দিনে জয়ের জন্ম হয়। সে সময় আমরা পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে বন্দি ছিলাম। আমাদের সে সময় বন্দি করে রাখা হয়েছিল ১৮ নম্বর রোডের একটি বাড়িতে। আমাদের কোনো বিছানা-পত্র ছিল না। কোনো ফার্নিচারও ছিল না। স্যাঁতস্যাতে ফ্লোরে থাকতে হত।

“আর পাকিস্তানি আর্মি বাঙ্কার করে আছে, দিন-রাত সেখানে গুলি চালাচ্ছে। এর মধ্যেই আমাদের দিন কাটাতে হত। এর মধ্যেই আমাকে তারা হাসপাতালে যেতে অনুমতি দিয়েছিল। কিন্তু আমার মাকে যেতে দেয়নি। মা যখন যেতে চেয়েছিল, সোজা বলে দেয়- হাসপাতালে ডাক্তার আছে, নার্স আছে দেখবে। আপনি ডাক্তারও না নার্সও না আপনি গিয়ে কী করবেন।”

আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি
আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে মঙ্গলবার ভিডিও কনফারেন্সে যুক্ত হয়ে বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ছবি: পিআইডি

সজীব ওয়াজেদ জয়ের নামের সঙ্গে যে বাংলাদেশ জড়িয়ে আছে, তাও বলেন বঙ্গবন্ধুকন্যা।

তিনি বলেন, “২৩ মার্চ সাধারণত আমরা ছোটবেলা থেকেই দেখেছি ওই দিন সমগ্র পাকিস্তানে জাতীয় পতাকা তোলা হত। কিন্তু ৭১ এর ২৩ মার্চ কোথাও পাকিস্তানের পতাকা কিন্তু তোলা হয়নি। ইয়াহিয়া খান তখন ঢাকায় ছিল, সে যেখানে ছিল সেখানে আর ক্যান্টনমেন্ট ছাড়া আর কোথাও পাকিস্তানি পতাকা তোলা হয়নি। সমগ্র বাংলাদেশে তখন বাংলাদেশের পতাকা।

“ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়িতেও সেই পতাকা তোলা হয়। বঙ্গবন্ধু যখন সেই পতাকা তুলে আসেন, আমি সব সময় আব্বার হাতের নখ নিজে কেটে দিতাম। আমি যখন নখটা কাটছি। আমাকে বললেন, তোর ছেলে হবে, স্বাধীন বাংলাদেশে জন্মগ্রহণ করবে। তার নাম রাখবি জয়।”

শেখ হাসিনা বলেন, “একাত্তরে জয় যখন জন্মগ্রহণ করে, আমরা জয় নামটা আব্বার দেওয়া, তাই জয় রেখেছিলাম। আর যেহতু বন্দিখানার মধ্যে আমাদের জন্য তো আনন্দের কিছু ছিল না। আমার মা বললেন, জয় আসার পরে আমরা অন্তত একটা কাজ পেলাম, আমরা যেন একটু সজীব হলাম। এই সজীব নামটা কিন্তু আমার মায়ের দেওয়া।”

আজ সেই জয়ের জন্মদিন: শেখ হাসিনা

শিশু জয়কে নিয়ে হাসপাতালে থাকার অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেন শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, “পাকিস্তানি বাহিনী যারা আমাদের বন্দি করে রেখেছিল, আমি যখন হাসপাতালে আমার দরজার সামনে তারা পাহারা দিত। তবে আমাদের যারা মুক্তিযোদ্ধা ছিল, আমি হাসপাতালে শুনে তারা কিন্তু দেখা করতে আসত। কিন্তু পাহারা থাকায় তারা আসতে পারত না।

“যেদিন জয় হয়েছে, তার পরের দিনের ঘটনা। কবি সুফিয়া কামাল এসেছেন আমাকে দেখতে, সাথে সিকান্দার আবু জাফরের স্ত্রী। ওনারা যেভাবে হোক, এক ফাঁকে আমার কেবিনে ঢুকে পড়েন। সাথে সাথে পাকিস্তানি সেনা সদস্য এসে দরজা খুলে তাদের সাথে খুব খারাপ ব্যবহার করে এবং বের করে দেয়। সেটা দেখে আমার খুব মেজাজ খারাপ হয়ে যায়।

“আমি ওকে ধমক দিই। আমি বললাম যে তুমি আমার রুমে ঢুকলা কেন? তুমি নক না করে কার পারমিশন নিয়ে ঢুকলা? আমি তাকে ধমক দিয়েছিলাম, তুমি যদি ফের আস, মুক্তিযোদ্ধা ডেকে তোমার লাশ ফেলে রাখব। ও সত্যিই ভয় পেল। এরপর থেকে আর আমার রুমের সামনে দাঁড়াত না।”

 172 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 11
    Shares
error: Content is protected !!