ধর্মপাশায় কিরোশীর মৃত্যু নিয়ে চলছে সমালোনার ঝড় আত্মহত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু!

সিলেট বিডি নিউজ.নেট
প্রকাশিত ২০, সেপ্টেম্বর, ২০২১, সোমবার

সুনামগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি: সুনামগঞ্জের ধর্মপাশায় হিন্দু ছেলের সাথে মুসলিম মেয়ে গণধর্ষণের শিকার হয়ে বিষপাণে আত্মহত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু? এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্র প্রতিক্রিয়া। কেউ বলছে গণধর্ষণের শিকার হয়ে আত্মহত্যা আবার কেই বলছে স্বাভাবিক মৃত্যু, স্বজনরা বলছে মানসিক সমস্যায় স্বাভাবিক মৃত্যু। গত ২রা সেপ্টেম্বর ধর্মপাশা উপজেলার সুখাইর রাজাপুর উত্তর ইউনিয়নের পাথারিয়াকান্দা গ্রামে একটি মেয়ের মৃত্যু নিয়ে রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদের ঝড়ও বইছে এবং বিষয়টির সঠিক তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর আসল রহস্য উম্মুচন করার দাবী স্থানীয়দের। ন্যায় বিচার নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা বাহিনীর প্রতি সুদৃষ্টি কামনা করছেন। বিভিন্ন সুত্র জানায়,পাথারিয়াকান্দা গ্রামের সুবল বর্মনের সাথে এক গ্রামেই এক কিশোরীর প্রেম ভালবাসার সৃষ্টি হয়। তারই জের ধরে গত ১লা সেপ্টেম্বর পাথারিয়া কান্দা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সুবল বর্মনসহ তার বন্ধু বান্ধবদের দ্বারা গণধর্ষণের শিকার হয় ঐ কিশোরী। গণধর্ষণের বিষয়টি জানা জানি হলে লজ্জা সইতে না পেরে ২রা সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার সকালে বিষপাণে আত্মহননের পথ বেচে নেয়। এ ঘটনায় ‘সত্যেরজয় চিরদিনরয়’ নামক ফেইসবুক আইডিতে হিন্দু প্রেমিক সুবল বর্মন ও তার সহযোগি সত্যেন্দ্র বর্মনের পুত্র লিটন বর্মন, জগদীশ বর্মনের পুত্র যিশু বর্মন ও রবি বর্মনের পুত্র লিটন বর্মন গণধর্ষণ করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

নিহত কিশোরীর চাচা কেনু মিয়া জানান, আমার ভাতিজি পেঠের বেদনা ছিল এবং মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল। বিষ খেয়ে মারা যায়নি। এমনিতেই মারা গেছে। ধর্ষনের বিষয় আমার জানা নাই। ধর্মপাশা থানার এসআই সোহেল জানান,একটি মেয়ে বিষপানে আত্মহত্যা করেছে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই এবং নিহতের পিতামাতা স্বজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানতে পারি, নিহত মেয়েটির মাথায় কিছুটা সমস্যা ছিল এবং গত ২রা সেপ্টেম্বর দুপুর অনুমান ৩টায় পেঠে ব্যাথায় আক্রান্ত হয়ে মারা যান। বিষ খেয়ে আত্মহত্যা কিংবা গণধর্ষণের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি। তবে এ বিষয়ে এখনও তদন্ত চলছে। যেহেতু নিহতের পিতামাতা কিংবা স্বজনদের কাহারো বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ ছিল না কিংবা বিষপাণে আত্মহত্যা করেছে তারও লক্ষণ পাওয়া যায়নি। ময়না তদন্তের জন্য মর্গেও পাঠাতে দেয়নি। তাই এ বিষয়ে কোন অপমৃত্যু মামলা হয়নি।

এ ব্যাপারে সুবল বর্মন জানান, নিহত কিশোরীর সাথে আমার কিংবা আমাদের বন্ধু বান্ধবের কোন সর্ম্পক ছিল না। আমি গজারিয়াতে জাল দিয়ে মাছ ধরি। বাড়ীতে খুবই কম সময় থাকি। আর অন্যান্য বন্ধু বান্ধবরা বিভিন্ন স্থানে থাকে। নিহত কিশোরীটি মাথায় সমস্যা ছিল বলে শুনেছি। কিভাবে মারা গেছে তাও জানি না।

ধর্মপাশা থানার ওসি খালেদ চৌধুরী জানান, পাথারিয়া কান্দা গ্রামে একটি মেয়ে মানসিক সমস্যায় ছিল এবং স্বাভাবিক মৃত্যু হয়েছে। আমার পুলিশ কর্মকর্তা পাঠিয়ে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করা হয়েছিল। বিষ খাওয়া কিংবা গণধর্ষণের অভিযোগের কোন সত্যতা পাওয়া যায়নি।

 96 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
error: Content is protected !!