বাহুবলের সন্ত্রাসী রাসেল ও তার সহযোগীরা কারাগারে 

সিলেট বিডি নিউজ.নেট
প্রকাশিত ৭, ডিসেম্বর, ২০২১, মঙ্গলবার
হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালের এমসি জালিয়াতি করেও শেষ রক্ষা হয়নি 
স্টাফ রিপোর্টারঃ বাহুবল উপজেলার মেয়াদ উত্তীর্ণ তাঁতী লীগের আহ্বায়ক রাসেল মিয়া ও তার ভাই বি এন পি নেতা ফারুক মিয়া ও শুভ মিয়া এই তিন জনকে  সন্ত্রাসী হামলা মামলায় সোমবার দুপুরে  জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন আদালত ।
গত সোমবার (৬ডিসেম্বর) অতিরিক্ত চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ইয়াসিন আরাফাত তাদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এর আগে গত ৩০ সেপ্টেম্বর রাসেল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে বাহুবল থানায় মামলা দায়ের করেন ওই গ্রামের গৃহবধু দিলারা খাতুন। পরে উচ্চ আদালত থেকে সাময়িক সময়ের জন্য আগাম জামিন নেয় রাসেল।
সম্প্রতি মামলা থেকে অব্যাহতি পেতে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে কতিপয় কর্তকর্তার মাধ্যমে ভুয়া এমসি তৈরি করে আইনজীবী নিলাদ্রী শেখর পুরকায়স্থ টিটুর মাধ্যমে সোমবার আদালতে আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নেন রাসেল।
এ সময় বাদীর আইনজীবী আদালতে দাখিল করা এমসির বৈধতা চালেঞ্জ করলে রাসেল ও তার সহযোগীদের কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন আদালত।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সুদের  ব্যবসা,চাঁদাবাজি,নারী কেলেঙ্কারি, জায়গা দখল, জায়গার দালালিসহ নানা সন্ত্রাসী কার্যকালাপের অভিযোগ উঠেছে বাহুবল উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ তাতীলীগের আহ্বায়ক রাসেল এর বিরুদ্ধে। রাসেল বাহুবল উপজেলার ৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়নের এর পূর্বজয়পুর গ্রামের মৃত জাফর মিয়ার পুত্র। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে রাসেল চতুর্থ। ভাইদের মধ্যে কেউ শিক্ষাগত যোগ্যতা এস এস সি এর গন্ডি পার করতে না পারলেও এলাকায় রয়েছে তাদের বেশ দাপট। পরস্পর সহদর হলেও এদের পরিচয় ভিন্ন ভিন্ন। রাসেল বাহুবল উপজেলার মেয়াদোত্তীর্ণ তাতীলীগের আহ্বায়ক, তার আরেক ভাই ফারুক জাতীয় পার্টির নেতা, আরেক ভাই আলকাস বিএনপির নেতা। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে রাজনীতিতে যোগ দিয়ে এসকল অপকর্ম করে যাচ্ছে তারা। রাসেল উপজেলায় চিহ্নিত একজন সুদের ব্যবসায়ী। রাসেলের আরেক ভাই ফারুক এলাকায় তাকে লাল ফারুক নামে চিনে। সেও বড় সুদী ব্যবসায়ী। স্থানীয় সকল কুকর্ম ফারুকের নেতৃত্বে থাকে। ব্যাংক চেক ও স্ট্যাম্পে অসহায় মানুষের  সাক্ষর  নিয়ে চলছে তাদের সুদী ব্যবসা। স্বল্পমূল্যে অসহায়ের জোর করে তাদের জায়া জায়গা জমি আত্মসাত করছে সব ভাইয়েরা মিলে। এভাবে জায়গা দখল করে কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছে তারা। জায়গা দখল করতে না দিলে চলে মধ্যযুগীয় কায়দায় নির্যাতন । উল্লেখ্য গত ২৭ সেপ্টেম্বর পূর্বজয়পুর গ্রামের সাংবাদিক নাজমুল ইসলাম হৃদয়ের বাবা আব্দুল জাহিরের উপর সন্ত্রাসী হামলা করে রাসেল ও তার সহযোগীরা । এ সময় নজরুল ইসলাম ও আলেমা বাঁধা দিলে দেশী অস্ত্র শস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে তাদেরকে মারাত্মক জখম করে । রাসেলদের হামলায় আব্দুল জাহিরের হাতের আঙ্গুল ও পা ভেঙ্গে যায় । হাতে ও পায়ের কুপ এর ফলে প্রায় শরীরে বিভিন্ন স্থানে ৪০ টি সেলাই লাগে । বর্বর হামলা থেকে রেহাই পায়নি নজরুল ইসলাম ও আলেমা খাতুন । এক পর্যায়ে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করেন । আব্দুল জাহিরের আহত অবস্থা গুরুত্ব হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনা নিয়ে সাংবাদিক হৃদয়ের মা দিলারা খাতুন বাদী হয়ে অত্রগ্রামের মৃত জাফর আলীর ছেলে মোঃ রাসেল মিয়াকে ১নং আসামী করে ১৪ জনের বিরুদ্ধে  (২৭সেপ্টেম্বর) বাহুবল মডেল থানায় মামলা দায়ের করা হলে সাথে সাথ  মামলা আমলে নেয়নি বাহুবল মডেল থানা। পরের গত ৩০ সেপ্টেম্বর মামলা আমলে নেয়া হয়েছে । যাহার  বাহুবল মডেল থানা মামলার নং ১০।  তারিখ ৩০/০৯/২০২১ইং । ধারা- ১৪৩/৩৪১/৩২৩/৩২৫/৩২৬/৩০৭/৩৫৪/৩৭৯/৫০৬/১১৪ । উক্ত  মামলায় জামিনের জন্য  হাজিরা দিতে গেলে আদালত মোঃ রাসেল ও ফারুক মিয়া সহ তিন জনের  জামিন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 134 total views

শেয়ার করে ছড়িয়ে দিন
  • 6
    Shares
error: Content is protected !!